স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বা ডিউটি ফ্রি বাজার সুবিধা হারাতে পারে বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সুবিধা অবসান এবং সহজ শর্তের ঋণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন চ্যালেঞ্জিং’ শীর্ষক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইসিসির বাংলাদেশ সভাপতি মাহবুবুর রহমান। আইসিসি বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুবুর বলেন, এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব ও ঝুঁকি আসছে। এর মধ্যে এলডিসির কাতার থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এর ফলে রফতানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ সুবিধার অবসান হতে পারে। এলডিসি হিসেবে যে বিশেষ সুবিধাগুলো পাওয়া যেত, যেমন রপ্তানিতে ভর্তুকি ও বাণিজ্য বিষয়ক মেধাস্বত্বের চুক্তি বাস্তবায়নে শিথিলতা, সেগুলো আর পাওয়া যাবে না। ফলে ওষুধশিল্পে পেটেন্টের নিয়ম আরও কঠোর হবে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াবে, ফলে ওষুধের দামও বাড়বে।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, কাঁচামালের উৎসবিধি বা রুলস অব অরিজিন কঠোর হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত থেকে দেশের মোট পণ্য রফতানি আয়ের ৮১ শতাংশেরও বেশি অর্জিত হয় বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
আইসিসির বাংলাদেশ সভাপতি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর সহজ শর্তের ঋণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বাজারভিত্তিক ঋণ নিতে হবে, এতে করে ঋণ শোধের চাপও বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের আওতাধীন আইডিএর নমনীয় ঋণ বা সফট লোন পাওয়ার সুবিধাও হারাবে।